কালের খবর ডেক্সঃ
শারদীয় দুর্গাপূজার রেশ কাটতে না কাটতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জ। পূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বসেছে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট। এসব হাটে প্রতিমা ও পূজার আনুষঙ্গিক উপকরণ কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, প্রতিমা বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
আগামীকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাওয়া লক্ষ্মীপূজাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে প্রতিমার বেচাকেনা। প্রতি বছরের মতো এবারও আশ্বিন মাসের কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠবেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। ঘরে ঘরে মণ্ডপ তৈরি করে স্থাপন করা হবে দেবীর প্রতিমা। ঢাক-ঢোল ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ ও বাড়ির আঙিনা।
পূজার তিথি অনুযায়ী, এবার কোজাগরী পূর্ণিমা শুরু হবে রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং শেষ হবে পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে।
লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জ শহরের খাটরা সার্বজনীন কালীবাড়ী, বেদগ্রাম, ঘোনাপাড়া, সাতপাড়, বৌলতলী, গান্ধিয়াশুর বাজার, কাশিয়ানীর সিংগা, রাহুথর বাজার, রামদিয়া, কাশিয়ানী সদর, কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বসেছে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট।
এসব হাটে আকার ও মানভেদে ছোট প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ৪টাকায় । বড় ও কারুকার্যখচিত প্রতিমার দাম পড়ছে সর্বোচ্চ প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিমার পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে পূজার বিভিন্ন উপকরণ। সোলার ফুল, নৌকা, কলাগাছ, মালা, নলডুগলি লতা, হলুদগাছ, পদ্মফুলসহ নানা সামগ্রী সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
কোটালীপাড়ার হিরন গ্রামের অজিৎ পাল বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় ৩০টি স্থানে শত বছর ধরে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট বসে আসছে। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এসব হাটে প্রতিমা বিক্রি করেছেন। আমরাও এখন প্রতিমা তৈরি করে এসব হাটে বিক্রি করি। এখানে প্রতিটি হাটে আমাদের নির্মিত প্রতিমা বেশ বিক্রি হয়।
পশ্চিমপাড় গ্রামের রঞ্জিত পাল বলেন, আমাদের এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।এ কারণেই প্রতিটি হাটেই ব্যাপক ভাবে প্রতিমা বিক্রি হয়।

প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। ফলে আগের তুলনায় বেশি দামে প্রতিমা বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের। প্রতিমাশিল্পী নেপাল পাল জানান, উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। তাই বিক্রয়মূল্যও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।
এদিকে, প্রতিমার হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বাড়িতে বাড়িতে পূজার আয়োজন করতে অনেকেই হাটে ঘুরে পছন্দের প্রতিমা দেখছেন এবং দরদাম করে কিনছেন। সাধ্যের মধ্যে প্রতিমা কেনার পাশাপাশি একই জায়গা থেকে পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।
গোপালগঞ্জ শহরের বটতলা রোডের বাসিন্দা প্রিয়ম মণ্ডল বলেন, “আড়াইশ টাকা দিয়ে প্রতিমা কিনেছি মায়ের পূজা করব বলে। মা আমাদের সবাইকে ভালো রাখবেন,এই আশাতেই পূজার আয়োজন করছি।
দুর্গাপূজার পর কোজাগরী পূর্ণিমায় বাঙালি হিন্দু পরিবারে পালিত হয় লক্ষ্মীপূজা। সংসারে সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতির কামনায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন ভক্তরা। ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কো জাগর্তি’ থেকে, যার অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে পরিভ্রমণ করেন এবং যাঁরা জেগে থেকে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁদের আশীর্বাদ করেন। এ বিশ্বাস থেকেই কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত জেগে দেবীর পূজা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপূজাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন উৎসবের আমেজ। দেবীর আশীর্বাদে পরিবারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভক্তরা। আর তাঁদের এই প্রস্তুতিকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রতিমা ও পূজার সামগ্রীর বেচাকেনা।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION