কালের খবর ডেক্সঃ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলো। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর জেলায় ১ হাজার ২৮৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও আশপাশের সড়ক সাজানো হয়েছে বাহারি রঙের আলোয়। কোথাও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা, কোথাও আবার গান-বাজনার আয়োজন। সন্ধ্যা নামতেই আলোর ঝলকানিতে মণ্ডপগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পূজামণ্ডপগুলো।
মহাষষ্ঠী উপলক্ষে বিভিন্ন মণ্ডপে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পাশাপাশি বেলতলায় পূজা, অঞ্জলি নিবেদনসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে। দেবীর চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করে অশুভ শক্তির বিনাশ, বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছেন ভক্তরা।
জেলা সদরের সিকদারপাড়া বাজার যুবসংঘ, সাহাপাড়া মৈত্রী সংঘ, কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালীবাড়ি, গোহাটা সার্বজনীন কালীবাড়ি, উদয়ন সংঘ ও শিল্পী সংঘ এবং কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা অনাথ আশ্রম, হাইস্কুল সংলগ্ন বাজার যুবসংঘসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে। মণ্ডপগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আয়োজকদের মধ্যে চলছে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা। আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার বৈচিত্র্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণের এই আয়োজন উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আগামীকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা চলবে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত উৎসবের আমেজ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ।
এদিকে জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আনন্দে গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। জেলায় ১,২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব চলছে। প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহলে থাকবেন। এ বছর প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শান্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে এই বৃহৎ যজ্ঞ শেষ করতে পারব।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION