কোটালীপাড়া প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে কৃষ্ণ বাড়ৈ (৩৪) ও মনোতোষ হালদার (৩৮) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর সেখানে তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অনিল বাড়ৈ নামে আরও এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত কৃষ্ণ বাড়ৈ কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলীয়া গ্রামের গেদু বাড়ৈর ছেলে। অপর নিহত মনোতোষ হালদার একই গ্রামের মহেন্দ্র হালদারের ছেলে। তাঁদের গত রবিবার রাতে পারিবারিক জায়গায় অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুর্গাপূজার সময় ওই গ্রামের কয়েকজন যুবক স্থানীয়ভাবে তৈরি চুল্লিমদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে রবিবার কৃষ্ণ বাড়ৈ এবং শনিবার মনোতোষ হালদারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অনিল বাড়ৈ নামে আরেক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মৃত কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমার ভাইসহ তিনজন ডেকোরেটরের কাজ করতে পাশের গ্রাম খাগবাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকজনে মদ্যপান করে। মদ্যপানের কয়েক ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করি। গত রবিবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ব্যাপারে আমরা থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করিনি।
মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার বলেন, আমার ভাই মনোতোষ হালদার পূজায় ডেকোরেটরের কাজে গিয়ে পানি জাতীয় কিছু খেয়েছিল। যার কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এরপরে এখানে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার তার মৃত্যু হয়।
রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভীম চরণ বাগচী বলেন, দুর্গাপূজার সময় সমবয়সী চার-পাঁচজন তরুণ তরল জাতীয় কিছু একটা পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরও একজন নিখোঁজ আছেন বলে শুনেছি, তবে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহামুদ বলেন, ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি। আমরাও এ বিষয়ে অবগত নই। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION