কালের খবরঃ
৬শ ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ – টেকেরহাট – ঘোনাপাড়া সড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও তা বাস্তবে কাজে আসছে না।যে যার মতো সড়কের জায়গা দখল করে দোকান বা ঘরবাড়ি তৈরি করে ভোগদখল করছে। বাসস্ট্যান্ড বা বাজার এলাকায় সড়কের উপর বাজার বসানো ও ভ্যান এবং ইজিবাইক যত্রতত্র রাখার কারণে পূর্বের অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ফলে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক বিভাগ তাদের জায়গা দখলে রাখতে সীমানা নির্ধারণ করে লাল রঙ দিয়ে মার্কিং করছে। আবার ঠিক উল্টো চিত্র চোখে পড়েছে। সেটা হলো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা, যার যার জায়গার সামনে থাকা সরকারি জায়গায় টিন ও বাঁশ দিয়ে ঘর তৈরি করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। ইতোমধ্যে আঞ্চলিক এই মহাসড়কে সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ, মাইকিং এবং অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা – খুলনা মহাসড়ক হওয়ার আগে গোপালগঞ্জের টেকেরহাট–গোপালগঞ্জ–ঘোনাপাড়া সড়কটি ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ছিল।তখন সড়কটি আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে পরিচিত ছিল। ৪৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপ দিতে ৩৪ ফুট চওড়া করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের জুনে ৬শ ১২ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। দরপত্র আহবানসহ নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয় এবং মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে ছয়টি গ্রুপে কাজটি শুরু করে, বর্তমানে কাজটি শেষের পথে।
কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়নি।এছাড়া ৫নং প্যাকেজের সদর উপজেলার হরিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জেলা শহরের এলজিইডি মোড় পর্যন্ত সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং-এর কাজ বাকি রয়েছে।

কিন্তু সড়ক সম্প্রসারণ কাজ শেষ হতে না হতেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা সড়কের পাশে থাকা সরকারি জায়গা ও সড়কের উপর দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ ভোগদখল করছে, যা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
এই বিষয়ে গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রথম ধাপ হিসেবে বৌলতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সার্ভে টিম মহাসড়কের উভয় পাশের সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ করেছে। পরে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবৈধ স্থাপনাগুলোতে লাল রঙ দিয়ে মার্কিং করেছেন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ সম্পন্ন হলে বৌলতলী বাসস্ট্যান্ড, উলপুর, গান্দিয়াশুর, সাতপাড়, জলিরপাড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান শুরু হবে।”
স্থানীয় বৌলতলী ও সাতপাড় গ্রামের বাসিন্দা হিরন বালা ও সঞ্চয় বিশ্বাস বলেন,মহাসড়কটি সম্প্রসারণ করা হলেও বাসস্ট্যান্ডে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান এবং রাস্তার ওপর বাজার বসার কারণে আগের মতোই সংকট রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের বড় অংশ অস্থায়ী বাজার ও যানবাহনের দখলে চলে যায়। বাজার বসানোর নির্ধারিত জায়গা থাকলেও সেখানে বাজার বসে না, ফলে চলাচলে সমস্যা হয়।

লোকাল বাস চালক তৈফিক শেখ ও প্রবীর বিশ্বাস বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালাতে প্রায়ই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। রাস্তার ওপর দোকান ও ছোট যানবাহনের কারণে হঠাৎ ব্রেক করলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃস্টি হয়। বিশেষ করে বৌলতলী ও সাতপাড় ও গান্ধিয়াশুর এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর একটি সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, তা না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সড়কে চলাচলকারী বৈলতলী বাজারের ব্যবসায়ী কেরামত আলী মোল্লা, কাকন শেখ, জলিরপাড় বাজারের ব্যবসায়ী অখিল মন্ডল, সাতপাড় বাজারের টিটো বিশ্বাস ও ডোগেশ্বর বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তারা জানান, সড়কটি এখন আগের তুলনায় অনেক ব্যস্ত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করে। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখলমুক্ত না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের দুই পাশের ঢাল ও সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অধিকাংশ বাসস্ট্যান্ডে ভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র ও নসিমনের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় সেগুলো রাস্তার ওপর অবস্থান নেয়। ফলে যানজট, দুর্ঘটনা ও যাত্রী ভোগান্তি নিয়মিত ঘটনা হিসেবে দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আঞ্চিলিক এইমহাসড়কের সরকারি জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো আঞ্চলিক মহাসড়ককে যানচলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ করা হবে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION