কালের খবর ডেক্সঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের বানিয়ারচরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশবান্ধব ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সামাজিক ও মানবিক সংগঠন সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এবং ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড (CJRF)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। আয়োজকদের মতে, পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান। সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সভারঞ্জন শিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভা মণ্ডল, বানিয়ারচর ক্যাথলিক চার্জের ফাদার রেভারেন্ড ডেভিড ঘরামী, বঙ্গরত্ন কলেজের অধ্যক্ষ সমীর কান্তি শাঁখারী, সাবেক চেয়ারম্যান দীপক বাড়ৈ, জলিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজগর মিয়া, সূর্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জন চন্দ্র বালা, বানিয়ারচর কারিতাস টেকনিক্যাল স্কুলের অধ্যক্ষ তুহিন কীর্তনীয়া,বাতিঘর পরিচর্যা কেন্দ্রের পরিচালক আনন্দ কীর্তনীয়া এবং তালবাড়ী সিসিডিবির প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ আব্দুল বারী।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডাঃ শুভ্রা শিকদার, কো-অর্ডিনেটর মাসুম বিল্লাহ সোহাগ এবং ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. শাওন সরকার জয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লুইস রানা গাইন।

সভাপতির বক্তব্যে সভারঞ্জন শিকদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, প্রবীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজনমূলক প্রতিটি উদ্যোগে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দূষণ, জলাশয় ভরাট, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, জলাশয় সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অটিজমে আক্রান্ত শিশু, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসেবা, ফিজিওথেরাপি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। একটি মানবিক, সবুজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিকে পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের হাতে উন্নতমানের ১হাজার ২০০ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION