শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নজরুল সভাপতি একরামুলকে সম্পাদক করে রিপোর্টার্স ফোরাম, গোপালগঞ্জ-এর ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন গোপালগঞ্জে সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর গোপালগঞ্জে ট্রাক চাপায় এক যুবক নিহত, আহত রিক্সা চালক গোবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের উদ্বোধন টুঙ্গিপাড়ায় কৃষকদের থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন কোটালীপাড়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে ৩ দিনব্যাপী কবি সুকান্ত মেলা। গোপালগঞ্জে দেড় মাসেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ গৃহবধূর গোপালগঞ্জে বিভিন্ন আয়োজনে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করাতে গোপালগঞ্জে গণমাধ্যমের সাথে প্রেস ব্রিফিং টুঙ্গিপাড়ায় বিধবা নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিলেন এমপি জিলানী

খাদ্য নিরাপত্তায় অধিক ফলনশীল আমন ব্রি হাইব্রিড ধান-৬

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৪, ১১.৩২ এএম
  • ৩৬৮ Time View
91

কালের খবরঃ

আমনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড ধান৬। স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এ ধান  বিঘায় (৩৩ শতাংশ) ২১ মণ ফলন দিয়েছে । ক্ষেতে রোগ, বালাই ও পোকা-পাকড়ের আক্রমণ হয়নি। তাই অল্প খরচে অধিক ধান গোলায় তুলেছেন কৃষক। আগামীতে লাভজনক এ ধানের আবাদে কৃষক ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন । আমন মৌসুমে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ জাতের ধান কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায় ।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও সিনিয়র সাইনস্টিফিক অফিসার ড. মো. রোমেল বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি হাইব্রিড ধান-৬ একটি আধুনিক, রোগ সহিষ্ণু, স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন ধানের জাত। এটি ভাল পরিচর্যা পেলে বিঘায় ২২ মন বা হেক্টরে  ৬.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। গোপালগঞ্জে এ ধান বিঘায়  ২১ মণ ফলেছে। সে হিসাবে এ জেলায় হেক্টর প্রতি এ ধান ৬.৩ টন ফলেছে। এ ধানের চাষাবাদ সম্প্রসারণ করতে পারলে দেশে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে । তাই কৃষকের বীজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৃজন চন্দ্র দাস বলেন, আমরা গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও বাগেরহাট জেলায় ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাত পরিচিতি, সম্প্রসারণ ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছি। আমন মৌসুমে আমরা ৩ জেলায় ১ হাজার ৪০০ কেজি ধানের বীজ বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছিলাম। তারা এ ধান দিয়ে ৭০০ বিঘা জমি চাষাবাদ করেছেন। এ ধান চাষে বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু বলেন, কৃষকের মাঠে এ ধান আমন মৌসুমের হাইব্রিড ধানের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট ফলন দিয়েছে। ব্রি বীজ দিলে অমরা এ জাত ছড়িয়ে দিতে আন্তরিকভাবে কাজ করব। এতে দেশে খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। এ ধান কাটার পর কৃষক রবি ফসল করতে পারবেন। কৃষিকে লাভজনক করতে ব্রি হাইব্রিড ধান-৬ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া গ্রামের কৃষক গৌরাঙ্গ ঠাকুর  বলেন, গত বছর  আমন মৌসুমে এ জমিতে ব্রি-৭৪ জাতের ধান চাষ করেছিলাম ।  বিঘায়  ১৫ মণ ধান পেয়েছিলাম । কিন্তু এ বছর  ব্রি হাইব্রিড ধান-৬ জাতের ধান চাষ করে  বিঘায়  ২১ মণ ধান পেয়েছি। এরপর এ জমিতে রবি ফসল করা হবে। তারপর বোরো ধান করতে পারব। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। বেশি ফসল উৎপাদন করে লাভবান হব।

একই উপজেলার সুকতাইল গ্রামের কৃষক লিটু শেখ বলেন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের  গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ৪ কেজি ব্রি হাইব্রিড ধান-৬ ও প্রয়োজনীয় সার বিনামূল্যে পাই। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শে এ ধান আমার  ২ বিঘা জমিতে রোপণ করি। রোপণের ১১৫ দিনের মধ্যে ধান কেটেছি । ক্ষেতে  পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হয়নি। তাই সার-কীটনাশক খরচ সাশ্রয় হয়েছে । সেচ খরচ তেমন নেই। এতে কম খরচে  অধিক ধান উৎপাদন করে অন্যান্য ধানের চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছি।

একই গ্রামের প্রবীণ কৃষক ছাবেদ আলী (৬৫) বলেন, আমার জীবনে আমন মৌসুমে আগে ক্ষেতে এত ধান উৎপাদিত হতে দেখিনি । ক্ষেতের ধান দেখে আমি খুবই খুশি। তাই আগামীতে আমি লাভজনক এ ধানের চাষ করতে চাই।  এ ব্যাপারে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Advertise

Ads

Address

Office : Sheikh Fazlul Haque Moni Stadium (2nd floor), Gopalganj-8100 Mobile: 01712235167, Email: kalerkhabor24.com@gmail.com
© All rights reserved 2022

Design & Developed By: JM IT SOLUTION