কালের খবর ডেক্সঃ
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাঁশি বাজতে এখনও কয়েক দিন বাকি। তবে তার আগেই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম পরিনত হয়েছে এক ক্ষুদ্র ফুটবল নগরীতে। গ্রামের রাস্তা, বাজার, মোড় ও খোলা মাঠজুড়ে এখন শুধুই বিশ্বকাপের আমেজ। কোথাও উড়ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা, কোথাও আবার শোভা পাচ্ছে জার্মানি ও স্পেনের রঙিন পতাকা ও ব্যানার। আর এসব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ভাস্কর্য এবং ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের বৃহদাকৃতির একটি প্রতিকৃতি।
বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জসহ আশপাশ জেলার মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে আসছেন এই আয়োজন দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
আয়োজক প্রভাষ দাস সূত্রে জানা গেছে, আর্জেন্টিনা ও মেসির প্রতি ভালোবাসা থেকেই গ্রামের অলোক বিশ্বাস, বাদল মন্ডল ও সজীব বিশ্বাসসহ আমরা চার বন্ধু মেসির বিশাল ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। গত ২২ মে থেকে ভাস্কর্য শিল্পী বিশ্বনাথ পাল অপর ৩ সহযোগীদের নিয়ে ছন, বাঁশ, কাঠ ও কাঁদামাটি দিয়ে শুরু করে নির্মাণ কাজ। ১৬ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্য তৈরিতে মোট ব্যয় হব প্রায় এক লাখ টাকা। এর মধ্যে মজুরী বাবদ ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে নির্মাণ শিল্পীকে।মাটির কাজ শেষ হয়েছে। শুকিয়ে গেলে আগামী ৯ জুন মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে রঙ এর কাজ। রঙ করতে দুই দিন সময় লাগবে।১০ জুন বিকেলে প্রস্তুত হবে এই ভাস্কার্য।এর পর এখানেই প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হবে।

ভাস্কর্য নির্মাণের অপর উদ্যাক্তা অলোক বিশ্বাস বলেন,ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাদের এই আয়োজন।তরুণ প্রজন্ম ফুটবলকে প্রায় ভূলতে বসেছে। আধুনিকতার ছোয়ায় ও মোবাইল আসক্তির কারনে সমাজের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। কিছুটা হলেও তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখি বা খেলা মুখি করতে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমরা চাই বিশ্বকাপের আনন্দ শুধু টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রামবাংলার মানুষও উৎসবের আবহে অংশগ্রহণ করুক। তাদের বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ভালো ফল করবে এবং মেসির দল শিরোপা জিতে আমাদের মতো ভক্তদের স্বপ্ন পূরণ করবে।
অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকরাও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পিছিয়ে নেই। তারা বহুগ্রাম বাজারে স্থাপন করেছেন নেইমারের বিশাল প্রতিকৃতি। এছাড়া বাজারজুড়ে টানানো হয়েছে প্রায় ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রাজিলের পতাকা। দূর থেকে দেখলেই মনে হবে,বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্রাজিল ভক্তদের উৎসাহ কতটা তুঙ্গে।

শুধু আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিল নয়, জার্মানি ও স্পেনের সমর্থকরাও নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা ও সাজসজ্জার মাধ্যমে উৎসবে যোগ দিয়েছেন। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক বর্ণিল পরিবেশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশ্বকাপের সময় প্রতিদিন বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হবে। খেলা উপলক্ষে আয়োজন করা হবে আড্ডা এবং প্রীতিভোজেরও। বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করবেন, যা গ্রামীণ সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION