কালের খবরঃ
গোপালগঞ্জের সোনামধন্য কণ্ঠশিল্পী, শিল্পী জগতের পুরোধা,স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-এর শিল্পী এবং গোপালগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির নিবেদিতপ্রাণ প্রশিক্ষক সংগীতগুরু অনিল কুমার বিশ্বাস পরলোকগমন করেছেন। আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০বছর। তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর গোপালগঞ্জ শহরতলীর লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর দক্ষিণপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
শিল্পের প্রতি আজীবন নিবেদিত এই মানুষটি কেবল একজন কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন এক প্রজন্মের সংগীতচর্চার প্রেরণার উৎস। মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-এর একজন শিল্পী হিসেবে তিনি দেশাত্মবোধক গান ও প্রেরণাদায়ী সুরের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হতো দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, মানবতার আহ্বান এবং মুক্তির প্রত্যয়।
গোপালগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চাঙ্গ সাধনায় দীক্ষিত করেছেন। তাঁর শিষ্যরা আজ দেশ-বিদেশে সংগীতাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন স্নেহশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শিল্পসাধনায় আপসহীন। সংগীতকে তিনি শুধু পেশা নয়, বরং সাধনা ও আত্মার পরিশুদ্ধির পথ হিসেবে দেখতেন বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ উদীচীর সভাপতি নাজমুল ইসলাম।
তাঁর মৃত্যুতে গোপালগঞ্জের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, অনুনাদ কালচারাল একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গ এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, তাঁর চলে যাওয়া গোপালগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
মৃত্যুকালে তিনি ছেলে-মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, শিষ্য ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তাঁর শিষ্য ও ভক্তদের হৃদয়ে আজ শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর স্মৃতিচারণায় ভরে উঠেছে শিল্পাঙ্গন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তাঁর মরদেহে গোপালগঞ্জের শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে পুষ্পরথে শবযাত্রা শেষে সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জের মানিদাহ পৌর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
গোপালগঞ্জের এই মহান শিল্পীর অন্তিম বিদায়ে বাংলাদেশ বেতার, শিল্পকলা একাডেমি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, ত্রিবেণী গণ সাংস্কৃতিক একাডেমিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন।
সংগীতগুরু অনিল কুমার বিশ্বাসের প্রয়াণে নিভে গেল এক সুরের প্রদীপ। তবে তাঁর কণ্ঠের অনুরণন, তাঁর শেখানো সুরলিপি ও তাঁর আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলবে, এটাই তাঁর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি বলে জানালেন গোপালগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এহিয়া খালেদ সাদী।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION