টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে একজন গর্ভবতী নারীসহ মোট ৬ জন আহত হয়েছেন। গর্ভবতী নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, কাতার প্রবাসী রানা মুন্সির গর্ভবতী স্ত্রী মেঘলা খানম (২৮), রানা মুন্সির চাচাতো ভাই শাহ জামাল মুন্সি (৪৫), আজাদ মুন্সি (৪২), রুবেল মুন্সি (৪০), লোটাস মুন্সি (৩৮), এবং তাদের মা, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সালাম মুন্সির স্ত্রী শাহনারা বেগম (৭০)।
চিকিৎসাধীন আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের রানা মুন্সি ও তার চাচাতো ভাই ওবায়েদ মুন্সির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার, এ বিরোধের জেরে ওবায়েদ মুন্সি ও তার সহযোগীরা প্রথমে প্রবাসী রানা মুন্সির স্ত্রী মেঘলা খানম (২৮)কে মারধর করেন এবং তার পেটের সন্তান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পেটে লাথি ও ইট দিয়ে আঘাত করে। এ সময় গর্ভবতী মহিলাকে বাঁচাতে তার স্বজনরা এগিয়ে আসলে একটি সংঘবদ্ধ দল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরও আঘাত করে।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৭০ বছর বয়সী শাহনারা বেগমকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত মেঘলা খানম জানান, ওবায়েদ মুন্সির সঙ্গে তাদের জমির সীমানা নিয়ে মামলা চলছিল। কোর্টে তিনবার রায় পাওয়ার পর গ্রাম্য সালিশে সমাধানের মাধ্যমে বাউন্ডারি ওয়াল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এরপরই ওবায়েদ মুন্সি ও তার দলবল প্রায় ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে ফুলকুচি, রামদা, ও গরু জবাইয়ের ছুড়ি নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়।
হামলাকারীরা মেঘলা খানমের পেটে লাথি মারে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা রানা মুন্সির চাচাতো ভাইদেরও রামদা দিয়ে কোপানো হয়, এবং তার ৭০ বছর বয়সী শাশুড়ি শাহনারা বেগমকেও বেদম মারধর করা হয়।
এ ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মোঃ আইয়ুব আলী জানান, খবর শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোন অভিযোগ থাকলে লিখিত দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION