কালের খবরঃ
গোপালগঞ্জসহ দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ জেলাসদরসহ সকল উপজেলায় সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ -উজ -জামান, পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এহসানুল হক, সহকারী কমিশনার অনিরুদ্ধ দেব রায়।এ সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য, স্কাউটস, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ র্যালিতে অংশ নেন।

র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান তার বক্তব্যে বলেন, প্রতি শনিবারই আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে আসছি। প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সেই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনসম্পৃক্ত করতে এ সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। বছরের এ সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর বলেন, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সরকারি মশক নিধন কার্যক্রমেও সহযোগিতা করতে হবে।

এদিকে এ দিন সকালে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আসিফ কবির, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুপ্তা হক, টুঙ্গিপাড়া ও কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এসব র্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসব র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। বক্তরা আরো বলেন,সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি ডেঙ্গুমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION