কালের খবর ডেস্কঃ
আধুনিক জীবনযাত্রায় শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস, স্থূলতা (ওবেসিটি), উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ফ্যাটি লিভারের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। তবে সুস্থ থাকার জন্য ব্যয়বহুল কোনো চিকিৎসা নয়, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসই হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম যা সব বয়সের মানুষ সহজেই করতে পারেন। এটি শরীরের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সক্রিয় রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি কমায়। বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশেষ করে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সুস্থ থাকতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ
নিয়মিত হাঁটলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং রক্তনালীগুলো সুস্থ থাকে। এতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে হৃদরোগের ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়কঃ
হাঁটার ফলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত হাঁটা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
ওজন কমাতে কার্যকরঃ
স্থূলতা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। নিয়মিত হাঁটলে ক্যালরি খরচ হয়, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে এবং বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) উন্নত হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ
হাঁটার মাধ্যমে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়ঃ
শুধু শরীর নয়, মনের জন্যও হাঁটা অত্যন্ত উপকারী। হাঁটার সময় মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও অবসাদ কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস ঘুমের মানও উন্নত করে।
স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়ঃ
গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটার ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এতে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত হয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতেও হাঁটা সহায়ক হতে পারে।
হাড় ও পেশি মজবুত করেঃ
নিয়মিত হাঁটলে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং পেশি শক্তিশালী হয়। ফলে বয়সজনিত হাড়ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস) ও জয়েন্টের নানা সমস্যার ঝুঁকি কমে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসও মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত হাঁটলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার চেষ্টা করা উচিত। যারা একটানা হাঁটতে পারেন না, তারা দিনে দুই বা তিনবার ভাগ করে হাঁটলেও একই ধরনের উপকার পেতে পারেন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত হাঁটার সমন্বয় একজন মানুষকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে পারে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION