কালের খবরঃ
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ-ঢাকা ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আর পহেলা বৈশাখ থেকে ঢাকা থেকে বেনাপোল গামী ট্রেন মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেবে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি ডাঃ কেএম বাবর। তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, এতে এ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হবে।অল্প খরচে এ জেলার মানুষ ট্রেনে চড়ে রাজশাহীর পাশাপাশি ঢাকা ও বেনাপোল যাতায়াত করতে পারবেন। এতে অর্থ ও সময় সংশ্রয় হবে।একই সাথে এ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। আজ শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাধীন ইউপি চেয়ারম্যানদের এামপিকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য ডাঃ বাবর বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সারা দেশের মানুষ ভাবে বিগত সরকার গোপালগঞ্জকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে।কিন্তু আমরা জানি বিগত সরকার গোপালগঞ্জের তেমন কোন উন্নয়ন করেনি, যাতে এ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।বিগত শেখ হাসিনার সরকার গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী ট্রেন চালু করেছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, তারা কি পারতো না গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চালু করতে? তারা কি পারতো না গোপালগঞ্জে একটি ইপিজেড স্থাপন করতে? তাহলে তো আমার জেলার মানুষের কর্মসংস্থান হতো। তারা মুখ দিয়ে বললে তো সব হতো।
তিনি আরো বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার দেশ শাসন করেছে। এ জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপরও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির জন্য আহাকার। পৌরসভার পানি মুখে নেয়া যায় না।নতুন সংযোগ দিতে পারছে না।যে পানি সরবরাহ করে তাও্ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তখন শুনেছি গোপালগঞ্জ পৌরসভা না কি টাকার বন্যায় ভেসে গেছে। তাহলে ওই টাকা গেলো কোথায়? জনগনের জন্য কি একটি পানির প্লান্ট নির্মাণ করা গেলো না। যাতে জনগন বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে।
ডাঃ বাবর বলেন, আমরা তিন এমপি মিলে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি।আমাদের ব্যক্তিগত কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দিন রাত কাজ করছি।আমাদের নেতা তারেক রহমান যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হাতের কালি শুকানোর আগেই তা বাস্তবায়ন করেছে। আগামীতে সারা দেশের সাথে গোপালগঞ্জেরও উন্নয়ন হবে।

ইউ.পি চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে ডাঃ বাবর বলেন, আপনারা সমাজের নিরীহ,দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করবেন। নির্বাচনে ভোটের আশায় তাদের ঠকিয়ে প্রভাবশালীর পক্ষ নেবেন না। এলাকায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থাকবেন, তাহলে আল্লাহ চাইলে আপনারা পুনরায় নির্বাচিত হবেন। আর মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকলে আল্লাহ আপনার সাথে থাকবেন।
উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এমপি বাবর বলেন, আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন না, যা জনগনের কোন কাজে আসবে না। আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন যাতে জনগন উপকৃত হবেন।আপনারা নির্ভয়ে কাজ করবেন যাতে আমার এলাকার মানুষ সুবিধা পায়। আমার সাথে যারা সব সময় থাকেন(নেতা-কর্মী) তাদের কোন অনৈতিক কাজেও সহযোগিতা করবেন না। আমার সাথে থাকা কেউ যদিআপনার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে চায় আমাকে জানাবেন, আমি ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এমপি বাবর আরো বলেন, গোপালগঞ্জের প্রতিটি মানুষের এমপি আমি। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমি একটি বাসযোগ্য গোপালগঞ্জ করতে চাই। যেখানে কোন গডফাদার বা বাহিনী থাকবে না। কোন রাজনৈতিক গডফাদারও থা্কবে না।আমার কাছে সবাই সমান।আর এভাবে আমরা মিলেমিশে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন করতে চাই।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বাবলী শবনাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আনিচুর রহমান, গোবরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, হরিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস হোসেন, উরফি ইউনিয়নের মনির গাজী, করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম আহমেদ, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম, কাজুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব আলী ফকির, শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা মোল্লা, সাহাপুর ই্উনিয়নের চেয়ারম্যান বিনয় সরকার আনাদি প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
সংবর্ধনা সভায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিণ্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION