কালের খবর ডেক্সঃ
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেছেন, ‘আপনারা বিগত দিনে অনেকেই বলেছেন, একটি দলকে ভোট দিলে তারা গোপালগঞ্জের জন্য কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোপালগঞ্জের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এবার ৬৪ জেলায় প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছেন, সেখানে গোপালগঞ্জের অবস্থান পঞ্চম।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, আমরা গোপালগঞ্জের তিন সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তিনি আমাদের বলেছেন, গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের বাইরের কোনো জেলা নয়। অন্যান্য জেলার মতো গোপালগঞ্জও বাংলাদেশের একটি জেলা। শুধু ট্রেন নয়, গোপালগঞ্জের জন্য যা যা দরকার, আমরা তাই করব।
গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চলাচলের শুভ উদ্বোধন করে তিনি আরও বলেন, আপনাদের সামনে কথা দিলাম, আগামীতে গোপালগঞ্জের জন্য যা যা করা দরকার, আমরা ইনশাআল্লাহ তাই করব। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই রুটে আরো একটি নতুন ট্রেন যুক্ত হবে। পাশাপাশি সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, গোপালগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে একটি ট্রেন চালু করা।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোপালগঞ্জের মানুষের জন্য ২০১০ সালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয় ২০১৮ সালে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছিল কাজটি শেষ করতে। রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে এই রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু রেললাইন নির্মাণের পরও ছয় বছরেও তৎকালীন সরকার গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় একটি ট্রেন চালু করতে পারেনি।
এস এম জিলানী আরও বলেন, এখানেই গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। যারা তখন দায়িত্বে ছিলেন, তারা টেন্ডারের মাধ্যমে রেললাইন নির্মাণ করেছেন। এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে বিদেশে পাচার করেছেন। জনগণের জন্য ট্রেন চালু করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার গোপালগঞ্জের মানুষের কথা চিন্তা করে ক্ষমতায় বসার ছয় মাসের মধ্যেই ট্রেন চালু করেছে।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, গোপালগঞ্জে রেললাইন নির্মাণের পর গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী একটি ট্রেন চালু হয়েছিল। তবে সেটি গোপালগঞ্জবাসীর তেমন কোনো কাজে আসেনি।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা নির্বাচিত হলে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চালু করব। এই ট্রেনে আপনারা মাত্র ২৯০ টাকায় গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াত করতে পারবেন। আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এই ট্রেন চালুর জন্য কাজ করেছি।
ডা. কে এম বাবর বলেন, এখন যে ট্রেনটি চালু হয়েছে, এটি আমাদের গোপালগঞ্জের জন্য চূড়ান্ত ট্রেন নয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে আমাদের নতুন ট্রেন আসবে। সেখানে এসি বগি, চেয়ার কোচসহ সব ধরনের সুবিধা থাকবে। আমরা গোপালগঞ্জের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে গোপালগঞ্জে সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায়। এ সময় ট্রেনে আগত গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীসহ গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে প্রথম ট্রেনে গোপালগঞ্জে আসা যাত্রীদেরও স্বাগত জানানো হয়।
গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেন আসছে এমন খবরে বিকেল থেকেই স্টেশন চত্বরে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পরে স্টেশনটি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় তারা আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পরে রাত ৮টা ৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা অথবা ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ যাতায়াতে যাত্রীদের ১৪৫ টাকা ভাড়া দিতে হবে। এ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও সন্তোষ দেখা গেছে।
এখন থেকে শনিবার ছাড়া প্রতিদিন ঢাকা থেকে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে এবং গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে যাবে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION