কালের খবর ডেক্সঃ
গ্রীষ্মের দুপুরের সূর্য আগুনের মতো ত্বক পুড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু অস্বস্তি নয়, এই অতিরিক্ত গরম শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিপদ আরও বেশি।শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে দেখা দেয় ‘হিট অ্যাক্সেশন’ বা তাপজনিত ক্লান্তি। যদি সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, এটি রূপ নিতে পারে ‘হিটস্ট্রোক’, যা জীবনকে সরাসরি হুমকিতে ফেলে।বিবিসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেল, হিটস্ট্রোকের আগে শরীর কী কী সংকেত দেয় এবং কীভাবে প্রাথমিক সতর্কতা নেওয়া যায়।
![]()
*এটি কয়েক মিনিটের মধ্যেও হতে পারে, আবার ধীরে ধীরে কয়েক ঘণ্টা ধরে তৈরি হতে পারে।
*লক্ষণগুলো হলো: অতিরিক্ত ঘাম, প্রচণ্ড গরম অনুভব, দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, বমি বমি ভাব, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা।
যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবেঃ
*শরীর খুব গরম লাগলেও ঘাম না হওয়া ,শরীরের তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস বা তার বেশি, দ্রুত শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসকাণ্ড শুরু হওয়া , বিভ্রান্ত আচরণ , খিঁচুনি ও
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কোনো সাড়া না দেওয়া
হিট অ্যাক্সেশন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়ে হিটস্ট্রোক হতে পারে। শরীর আর তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হিট অ্যাক্সেশন ও হিটস্ট্রোকের পার্থক্যঃ
হিট অ্যাক্সেশন: সাধারণত গুরুতর নয়, দ্রুত ঠাণ্ডা করলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। হিটস্ট্রোক: জরুরি অবস্থা, অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে যারা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, যেমনঃ রিকশা ও সাইকেল চালক , নির্মাণ শ্রমিক ,কৃষি শ্রমিক,ট্রাফিক পুলিশ
এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও সতর্ক থাকতে হবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুদের।

শিশুরা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না, তাই সতর্ক থাকা জরুরি। কিছু লক্ষণঃ অস্বাভাবিকভাবে ঘুমঘুম ভাব, দুর্বল হয়ে পড়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় কম সক্রিয় থাকা
আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোদ বা উষ্ণ পরিবেশ থেকে সরিয়ে ঠাণ্ডা, ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন। সম্ভব হলে এসি বা ফ্যানযুক্ত কক্ষে নেওয়া ভালো। অপ্রয়োজনীয় পোশাক খুলে দিন। শরীর ঠাণ্ডা করতে ভেজা কাপড় বা স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। ঘাড়, বগল, কুঁচকি জায়গায় বরফ বা ঠাণ্ডা সেঁক দিলে দ্রুত উপকার হয়। হাতপাখা বা ফ্যান দিয়ে বাতাস দেওয়া শরীরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি বা স্যালাইন পান করান।
সাধারণত ৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হওয়া উচিত। যদি না হয়, বা হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। জরুরি সেবা পেতে ৯৯৯-এ কল করুন।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে গেলে ছাতা, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক, টুপি ব্যবহার করুন। নিয়মিত পানি পান করুন; তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা করবেন না। অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল শরীরকে পানিশূন্য করে। সচেতনতা ও প্রাথমিক ব্যবস্থা জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION