কালের খবরঃ
ঈদের দিনে গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩জনসহ ৫জন নিহত হয়েছে।এসময় আহত হয়েছে ২বাসযাত্রী। তাদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশংকাজনক।এদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় ও পিরোজপুরের নাজিরপুর ইপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।।ঘটনার পরপর স্থানীয় এমপি,ডিসি ও এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের জেলা শহরের বেদগ্রাম এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুর গামী দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌছালে বিপরীত দিক চিতলমারী থেকে আসা একটিমোটর সাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।এসময় বাসটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার উপর উল্টে যায়।
ফলে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলে ২ আরোহী ও বাসের ২ যাত্রী নিহত হয়।এসময় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নিহত আহতদের্ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেখানে আহত ৬ বছরের শিশুকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘেষেনা করেন।
নিহতরা হলেন-মোটরসাইকেল আরোহী বাগের হাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের সমেশ ঢালীর ছেলে শয়ন ঢালী(২০)একই গ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে সইব শেখ (১৯)। দুই বন্ধু চিতলমারী থেকে মোটরসাইকেলযোগে মাদুরীপুরের কদমবাড়ী গ্রামে গণেশ পাগলের মেয়ায় যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। অপর পরিচয় পাওয়া একই পরিবারের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক এর মেয়ে ও দুর্ঘটনায় নিহত মোঃ সোহাগের স্ত্রী মোসাম্মত খাদিজা খাতুন (৩২),তার স্বামী মোঃ সোহাগ ও ছেলে আরমান(৮)।

ক্রমেই অত্যান্ত বিপদজনক হয়ে পড়েছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক।প্রায় প্রান ঝরছে এই মহাসড়কটিতে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ওভার টেকিংসহ আরো বেশ কয়েকটি কারনে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।আজ ঈদের দিনও মহাসড়কে ঝরে গেলো ৫টি প্রান।
ঈদের দিনে এধরনের দূর্ঘটনা কারোরই কাম্য নয়।যেসব কারনে সড়ক দূর্ঘটনা বেশী হচ্ছে তার অণ্যতম কারন হলো ওভার টেকিং ও বেশী গততে গাড়ি চালানো। আমরা এসব বিষয়ে কাজ করবো বলে জানালেন স্থানীয় এমপি ডাঃ কে. এম বাবর।
পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ বলেন , আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ- উজ – জামান বলেন, খবর শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের হাসপাতালে আনা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে যদি কেউ বেশী অসুস্থ থাকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর দুর্ঘটনার কার হিসেবে দ্রুদগতি বলে জানতে পেরেছি। এই বিষয়ে বাস কর্তৃপক্ষের সাথে বসে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আর লাশ দাফন কাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ২০ হাজার করে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION