স্টাফ রির্পোটারঃ
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন মানিকদাহ, লতিফপুর পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিমের কাজে ড্রয়িং, ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার পর পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের কথা থাকলেও তার আগেই পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরে বিষয়টি নজরে আসার পর পাইপলাইন স্থাপনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সেফ ওয়াটার সাপ্লাই থ্রু আউট দ্য কান্ট্রি’ প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির চারটি পাইপড পানি সরবরাহ স্কিম নির্মাণের জন্য ৭০২৮ নম্বর প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির অনুমোদিত চুক্তিমূল্য ১০ কোটি ৭০ লাখ ২১ হাজার ১৫৫ টাকা। কাজের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ মাস।
টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার আগেই পাইপলাইনঃ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মানিকদাহ এলাকার প্লান্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে টেস্ট টিউবওয়েল স্থাপন করে পানির গুণগত মানসহ প্রয়োজনীয় বিষয় পরীক্ষা করার কথা। টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার পর ওই পানির উৎসকে কেন্দ্র করে পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করার নিয়ম রয়েছে।
কিন্তু টেস্ট টিউবওয়েলের সফলতা নিশ্চিত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও ভবিষ্যতে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করে বলেন, শেষ পর্যন্ত টেস্ট টিউবওয়েল থেকে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত পানি পাওয়া না গেলে ওই উৎসকে কেন্দ্র করে স্থাপন করা পাইপলাইন কোনো কাজে আসবে না। ফলে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পাওয়ার প্রত্যাশাও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
নিয়ম মেনেই কাজ চাইঃ
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম মণ্ডল বলেন, “টেস্ট টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যাবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। অথচ পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আমরা চাই, এভাবে কাজ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করুক। তাহলেই আমরা নিরাপদ ও সুপেয় পানি পাব।
স্থানীয় বাসিন্দা রেখা বাগচী বলেন, আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যা রয়েছে। আমরা চাই, প্রকল্পের কাজ সঠিক নিয়মে ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হোক। তা না হলে এই প্রকল্প থেকে আমাদের কোনো উপকার হবে না। নিরাপদ পানি পান থেকে এলাকার মানুষ বঞ্চিত হবে।
লিখিত সতর্ক করার দাবি প্রকৌশলীরঃ
গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী রতন কুমার সাহা বলেন, “ড্রয়িং, ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূতভাবে কাজ না করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার বলা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এরপরও ঠিকাদার নিজস্বভাবে পাইপলাইনের কিছু কাজ করেছেন।তিনি আরও বলেন, “টেস্ট টিউবওয়েল সফল না হলে ওই এলাকায় প্লান্ট স্থাপন করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে পাইপলাইন স্থাপনের জন্য অফিস দায়ী থাকবে না।
পাইপলাইন স্থাপনের কাজ বন্ধ করা হয়েছেঃ
গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়েজ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে নোটিশ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ বন্ধ করিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার পর পরবর্তী কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যঃ
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ‘এমপিটি এমএমই জেভি’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোঃ সোহেল রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার সৌমিক কাজী বলেন, “আমরা টেস্ট টিউবওয়েলের কাজ করছি। এটি সফল হলে পরবর্তীতে গ্রাহক সংযোগসহ বাকি কাজ শুরু করব।
পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, “কে বা কারা গ্রাহক সংযোগের পাইপলাইনের কাজ করছে, তা আমাদের জানা নেই। পাইপলাইনের কাজ করার জন্য আমাদের কারও সঙ্গে কোনো লিখিত চুক্তিও হয়নি।
প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত নীতিমালা ও অনুমোদিত ড্রয়িং-ডিজাইন অনুযায়ী সম্পন্ন হলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION