কালের খবর ডেক্সঃ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন,২০২৪-২৫ সালে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি এ জন্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক ভুল ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেন।
আজ রবিবার (২৮ জুন) সকালে গোপালগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, সেটি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তারা ভুলবশত কিংবা অদূরদর্শিতার কারণে ২০২৪-২৫ সালে নির্ধারিত হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর পরিণতিতেই জনগণকে হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। এজন্য কোনো শিশুই যেন ভিটামিন ‘এ’ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের অনেক ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ কারণে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রসূতি মায়েরা স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান।
তিনি আরও জানান, গোপালগঞ্জকে একটি স্বাস্থ্য হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। এ লক্ষ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক কার্ডিয়াক সেন্টার ও ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পাশাপাশি চক্ষু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, চক্ষু হাসপাতালসহ নির্মিত স্বাস্থ্য অবকাঠামো ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান, চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শাহীন ইকবাল, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক, ইউনিসেফের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম জেলার ৭টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ১ হাজার ৬৭৬টি অস্থায়ী কেন্দ্রে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, দুপুরে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে চিকিৎসকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চিকিৎসকরাও বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ সহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকগণ উপস্থিত ছিলেন।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION