কালের খবর ডেক্সঃ
শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ‘জয় বাংলা, শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’এমন স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার প্রায় এক মাস পর অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি (ছাড়পত্র) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গোপালগঞ্জজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ওই ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টি.সি) দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ জিয়াউল হক। এর মধ্যে ৭ শিক্ষার্থী ছাড়পত্র গ্রহণ করেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে স্কুল ছুটির পর বিভিন্ন শ্রেণির একদল শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে তৎকালীন শাসক দল আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়। এই ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যেরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সাজা বা টিসি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো, নবম শ্রেণির মোঃ আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সি, কাজী সাইদুল ইসলাম সাইদ, শ্রান্ত মজুমদার, শেখ আব্দুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান ও রিয়াজুল মুন্সি। অষ্টম শ্রেণির রেজাউল করীম এবং দশম শ্রেণির সাজিদ কাজী।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া সাংবাদিকদের বলেন, শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনিক নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই তিনি বাস্তবায়ন করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যা কিছু হয়েছে, সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া এ প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ঘিরে নতুন করে গোপালগঞ্জে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এমন বড় সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা নিয়েও স্থানীয় মহলে চলছে নানা আলোচনা।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION