কালের খবর ডেক্সঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস রাস্তার পাশের খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে উন্নত টিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার সালিনাবক্সা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৯০৩৭) বাসটি সালিনাবক্সা এলাকায় পৌঁছালে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বাসের দ্রুতগতি ছিল। পরে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে গিয়ে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ আনিচুর রহমান নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ভীষ্মদেব মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনার পর ১৭ জন আহত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত পিরোজপুরের জিয়ানগর এলাকার বাসযাত্রী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, চালকের অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।দুর্ঘটনার কারনটি জানার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে।তবে প্রাথমিক ভাবে দ্রুত গতি ও বৃষ্টির কারনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীদের সূত্রে জানাগেছে।
দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। পরে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শেখ আনিচুরের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকী দুইজনের পরিচয় জানতে পিবিআইকে কল করা হয়েছে। পরিচয় পেলে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা ভাইওয়ে থানার ওসি মোঃ হেলাল উদ্দিন।#
Design & Developed By: JM IT SOLUTION