রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টুঙ্গিপাড়ায় ছয় মাসের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি গঠন গোপালগঞ্জে কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মুকসুদপুরে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের হোতা ‘বিশু গ্যাং’ প্রধান আটক বেলার মামলায় কক্সবাজারের সড়ক প্রকল্প আটকে আছে: মীর শাহে আলম প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন, স্বাবলম্বী হওয়ার পথে ২০ নারী মাদক নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন -এমপি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জে কলেজছাত্র হত্যার মামলার আসামি গ্রেপ্তার আইসিসিবিতে তিন আয়োজনের মিলনমেলা, ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রয়াত ও অসুস্থ চার সাংবাদিকের পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন নির্ধারিত সময়ের আগেই ২২ অতিরিক্ত বিচারপতির স্থায়ী নিয়োগ

বেলার মামলায় কক্সবাজারের সড়ক প্রকল্প আটকে আছে: মীর শাহে আলম

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১.৪০ এএম
  • ৮ Time View
10

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি বাধা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আদালতের শরণাপন্ন হয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত সড়ক প্রকল্পটি বেলার মামলার পর আদালতের নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঠিকানা। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে।

কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন বিকশিত হতে না দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘পুরো কক্সবাজারকে নিয়ে সরকার বিপদের মধ্যে আছে।’

তিনি বলেন, সরকার যখনই কক্সবাজার শহরকে সুন্দর ও আধুনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়, তখনই একটি সংস্থা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এমন হলে কক্সবাজার শহরকে সাজাব কিভাবে?’

মীর শাহে আলমের অভিযোগ, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি তা ব্যবহার করে উন্নয়নকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর ধরে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল। কাজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষার বিষয়টি সামনে এনে আপত্তি জানায়। বেলার পক্ষ থেকে বলা হয়, সমুদ্রসৈকত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণ পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে বেলা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে মামলার শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, এ ধরনের আইনি বাধার কারণে কক্সবাজারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না—এমন বিধিনিষেধ রয়েছে। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে শুধু একতলা ভবন নির্মাণের নির্দেশনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া যায় না। পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু একের পর এক আইনি বাধা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম।

এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Advertise

Ads

Address

Office : Sheikh Fazlul Haque Moni Stadium (2nd floor), Gopalganj-8100 Mobile: 01712235167, Email: kalerkhabor24.com@gmail.com
© All rights reserved 2022

Design & Developed By: JM IT SOLUTION