কালের খবর ডেক্সঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর অপমান ও লোকলজ্জায় অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।গত সোমবার (২৮ জুলাই ) দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর নাম রিংকি বাড়ৈ (১৩)। সে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বরইভিটা গ্রামের অমৃত বাড়ৈর মেয়ে এবং রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলার ধর্মরায়ের বাড়ি গ্রামের নানা স্বপন মজুমদারের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। অপর ভুক্তভোগী যুবকের নাম সূর্য বাড়ৈ। তিনি উপজেলার রাহুথড় গ্রামের শিবনাথ বাড়ৈর ছেলে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই স্কুল চলাকালে রিংকিকে রাহুথড় বড় ব্রিজ এলাকা থেকে ধরে এবং সূর্যকে বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় রিংকি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার যুবকরা আমার বাড়ির পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের দুজনকে স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তারা কাজটি সঠিক করেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না। পরে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন।আজ তিনি বাড়িতে এসেছেন। সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাগর মজুমদার বলেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক বিচার করা হবে।
এ ব্যপারে কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি।অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION