কালের খবর ডেক্সঃ
গোপালগঞ্জে দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নুর হোসেন (২১) নামে এক যুবক নিহত এবং অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নিহত নুর হোসেন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার সোদার গ্রামের আজহারউদ্দিনের ছেলে।আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।খুলনা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চেচানিয়াকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ এবং ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মনোজিৎ নন্দী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ৯ জন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এবং ১৭ জন গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জিএমএস ও সুন্দরবন পরিবহনের দুটি বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সুন্দরবন পরিবহনের বাসটি জিএমএস পরিবহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে যাত্রীবাহী দুটি বাস সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ওই দুই বাসের অন্তত ৫০ জন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুন্দরবন পরিবহনের যাত্রী ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলাল মিয়া বলেন, “আমি মংলা থেকে ঢাকার দিকে সুন্দরবন পরিবহনে যাচ্ছিলাম। গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় পৌঁছালে দেখি দুটি বাস পাল্লা দিয়ে চলছিল। সুন্দরবন পরিবহন জিএমএস পরিবহনকে সাইড দেওয়ার জন্য বারবার সংকেত দিলেও তারা সাইড দেয়নি। দ্রুতগতির কারণে জিএমএস পরিবহনের বাসটি সড়কের ওপর এদিক-সেদিক করছিল। এ সময় ঢাকার দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে জিএমএস পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে সুন্দরবন পরিবহনের বাসটি পেছন থেকে গিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী দুটি বাস সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। ফলে দুই বাসের অধিকাংশ যাত্রী আহত হন।” দুর্ঘটনার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উভয় দিকে অন্তত ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION