কালের খবরঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গোয়েন্দা পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতির চেষ্টা চালানোর সময় স্থানীয় জনতার হাতে চার ডাকাত আটক হয়েছে। গণধোলাইয়ের পর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোটালীপাড়ার সিকিরবাজার এলাকায়।
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কোটালীপাড়ার বান্দর গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ী ও স্লুইজগেটের মাঝামাঝি এলাকা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, র্যাবের পোশাক ও হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাইক্রোবাসে করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সিকিরবাজার এলাকায় ওত পেতে ছিল। প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে স্বর্ণালংকার ব্যাগে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন দুই ভাই স্বর্ণ ব্যবসায়ী শিব শংকর কর্মকার ও কৃষ্ণ কর্মকার। পথে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৭-৮ জনের ডাকাত দল মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
পরে ডাকাতরা ছোট ভাই কৃষ্ণ কর্মকারকে মারধর করে সিকিরবাজার এলাকায় ফেলে রেখে যায় এবং বড় ভাই শিব শংকর কর্মকারকে স্বর্ণালংকারসহ নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীরা দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতদের গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা করা হয়। ডাকাতরা গাড়ি ঘুরিয়ে আগৈলঝাড়া অভিমুখে পালানোর চেষ্টা করলে সেখানেও স্থানীয়রা রিকশা-ভ্যান দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে।
এ সময় স্থানীয় জনতা চার ডাকাতকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং অপহৃত শিব শংকর কর্মকারকে উদ্ধার করে। তবে বাকি ডাকাতরা স্বর্ণালংকার নিয়ে মাইক্রোবাস ফেলে পালিয়ে যায়।
রাত প্রায় ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আগৈলঝাড়া ও কোটালীপাড়া থানা পুলিশ পৌঁছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ, জনতা ও ডাকাতদের ধরার অভিযান চলে। পরে আহত চার ডাকাত সদস্যকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং দুই ব্যবসায়ীকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ডাকাতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, র্যাবের পোশাক ও হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ডাকত সদস্যদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION