শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জলাশয়ে ফিরেছে শামুক, সংরক্ষণের দাবিঃ মুকসুদপুর উপজেলার উজানী ইউনিয়নের ধর্রায়েরবাড়ী গ্রামের কৃষক হরষিৎ মজুমদার বলেন, একসময় চান্দারবিলসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোর বিল ও জলাশয়ে প্রচুর শামুক পাওয়া যেত। তখন বিলপাড়ের দরিদ্র মানুষ বিল ও জলাশয় থেকে শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি ট্রলার বিলে এসে এসব শামুক কিনে নিয়ে যেত। নির্বিচারে শামুক আহরণ ও বিক্রির ফলে একপর্যায়ে বিলগুলো থেকে শামুক প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে বিলে তেমন শামুক পাওয়া যেত না। গত বছরও শামুকের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। ফলে কেউ আর বিলে শামুক কুড়াতে যেতেন না। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বিলে আবারও বেশ কিছু শামুকের দেখা মিলেছে। এতে দরিদ্র মানুষ শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে এ বছর কিছুটা আয় করতে পেরেছেন। হরষিৎ মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শামুক আহরণ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগের মতোই বিল ও জলাশয় থেকে এই প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যেতে পারে। উজানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিনেশ মন্ডল ও সিংগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রথিন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, একসময় বিলে ও জলাশয়ে অবাধে শামুক পাওয়া যেত। তখন এসব এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরও প্রচুর আনাগোনা ছিল। শামুকের ডিম পাখির অন্যতম প্রিয় খাবার হওয়ায় জলাভূমিগুলো ছিল পাখিদের বিচরণক্ষেত্র। সে সময় এলাকায় বোরো ধানের আবাদ ছিল না; মূলত আউশ ও আমন ধানের চাষ হতো। এসব ধান চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারও ছিল না বললেই চলে। তাঁরা আরও বলেন, একসময় বিলে নৌকা চালানোর সময় পানির নিচে থাকা শামুকের কারণে একধরনের গড়গড় শব্দ শোনা যেত। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য ও শব্দের দেখা মেলে না। দীর্ঘদিন পর বিলে নতুন করে শামুকের উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় একে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আবারও জলাশয় থেকে শামুক হারিয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, শামুক শুধু জলজ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই নয়, এটি জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। তাই নির্বিচারে শামুক আহরণ বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আবাসন খাতের সংকটে চাপে ২৫০টির বেশি সহযোগী শিল্প পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে-সেলিমুজ্জামান এমপি কাশিয়ানীতে ৩০ বোতল মাদকসহ একজন আটক মানুষের জীবন ও সম্পদের মর্যাদা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশ ব্যবসা যেন নামাজ ও ইবাদতের পথে বাধা না হয় প্রণোদনা ঋণে খেলাপিমুক্ত হতে ২ শতাংশ নগদ জমার শর্ত বাতিল চান ব্যবসায়ীরা শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসেই স্মার্ট আবাসন ভবনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেটে আসছে নতুন ব্যবস্থা: গৃহায়ন মন্ত্রী গোবিপ্রবির গেটের ভিতরে ও বাইরে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ

পাবর্ত্য এলাকার তিন দিকে সীমান্ত !সেখানে সন্ত্রাসী দমনে কাজ করছে সরকার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০২৩, ৬.৪৯ পিএম
  • ৪৯৬ Time View
163

টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধিঃ

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি বলেছেন, পাবর্ত্য এলাকার তিন দিকে সীমান্ত রয়েছে। ফলে সেখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। যা দমনে কাজ করছে সরকার। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, ২৬টি উপজেলা নিয়ে পার্বত্য অঞ্চল গঠিত। আর প্রত্যেকটি অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

বুধবার ( ৮মার্চ)দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা এসব কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ হলে তা সরকারের উপর দোষারোপ চাপাতে চায়। এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। সেখানে এমন কোন পরিস্থিতির সৃস্টি হয়নি যে, সেটা দেশ ও আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, সরকার চেষ্টা করছে শান্তি-শৃংখলা রক্ষার জন্য।

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি আরো বলেন, দীর্ঘ সময়ের সংঘর্ষের পর শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পরে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা, ভালবাসা, সম্প্রতি আছে, তেমনি জনগনের জানমাল রক্ষায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি নিয়ন্ত্রন করার জন্যও তৎপর রয়েছেন তিনি। সরকার পাবর্ত্য অঞ্চলকে সম্পদশালী করার জন্য যা যা করার দরকার সেটাই করেছে।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপির নেতৃত্বে এবং আলাদাভাবে বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় পাবর্ত্য জনসংহতি কমিটির সভাপতি সন্তু লারমা সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

জলাশয়ে ফিরেছে শামুক, সংরক্ষণের দাবিঃ মুকসুদপুর উপজেলার উজানী ইউনিয়নের ধর্রায়েরবাড়ী গ্রামের কৃষক হরষিৎ মজুমদার বলেন, একসময় চান্দারবিলসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোর বিল ও জলাশয়ে প্রচুর শামুক পাওয়া যেত। তখন বিলপাড়ের দরিদ্র মানুষ বিল ও জলাশয় থেকে শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি ট্রলার বিলে এসে এসব শামুক কিনে নিয়ে যেত। নির্বিচারে শামুক আহরণ ও বিক্রির ফলে একপর্যায়ে বিলগুলো থেকে শামুক প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে বিলে তেমন শামুক পাওয়া যেত না। গত বছরও শামুকের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। ফলে কেউ আর বিলে শামুক কুড়াতে যেতেন না। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বিলে আবারও বেশ কিছু শামুকের দেখা মিলেছে। এতে দরিদ্র মানুষ শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে এ বছর কিছুটা আয় করতে পেরেছেন। হরষিৎ মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শামুক আহরণ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগের মতোই বিল ও জলাশয় থেকে এই প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যেতে পারে। উজানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিনেশ মন্ডল ও সিংগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রথিন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, একসময় বিলে ও জলাশয়ে অবাধে শামুক পাওয়া যেত। তখন এসব এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরও প্রচুর আনাগোনা ছিল। শামুকের ডিম পাখির অন্যতম প্রিয় খাবার হওয়ায় জলাভূমিগুলো ছিল পাখিদের বিচরণক্ষেত্র। সে সময় এলাকায় বোরো ধানের আবাদ ছিল না; মূলত আউশ ও আমন ধানের চাষ হতো। এসব ধান চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারও ছিল না বললেই চলে। তাঁরা আরও বলেন, একসময় বিলে নৌকা চালানোর সময় পানির নিচে থাকা শামুকের কারণে একধরনের গড়গড় শব্দ শোনা যেত। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য ও শব্দের দেখা মেলে না। দীর্ঘদিন পর বিলে নতুন করে শামুকের উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় একে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আবারও জলাশয় থেকে শামুক হারিয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, শামুক শুধু জলজ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই নয়, এটি জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। তাই নির্বিচারে শামুক আহরণ বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

জলাশয়ে ফিরেছে শামুক, সংরক্ষণের দাবিঃ মুকসুদপুর উপজেলার উজানী ইউনিয়নের ধর্রায়েরবাড়ী গ্রামের কৃষক হরষিৎ মজুমদার বলেন, একসময় চান্দারবিলসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোর বিল ও জলাশয়ে প্রচুর শামুক পাওয়া যেত। তখন বিলপাড়ের দরিদ্র মানুষ বিল ও জলাশয় থেকে শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি ট্রলার বিলে এসে এসব শামুক কিনে নিয়ে যেত। নির্বিচারে শামুক আহরণ ও বিক্রির ফলে একপর্যায়ে বিলগুলো থেকে শামুক প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে বিলে তেমন শামুক পাওয়া যেত না। গত বছরও শামুকের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। ফলে কেউ আর বিলে শামুক কুড়াতে যেতেন না। তবে চলতি বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বিলে আবারও বেশ কিছু শামুকের দেখা মিলেছে। এতে দরিদ্র মানুষ শামুক কুড়িয়ে বিক্রি করে এ বছর কিছুটা আয় করতে পেরেছেন। হরষিৎ মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শামুক আহরণ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগের মতোই বিল ও জলাশয় থেকে এই প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যেতে পারে। উজানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিনেশ মন্ডল ও সিংগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রথিন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, একসময় বিলে ও জলাশয়ে অবাধে শামুক পাওয়া যেত। তখন এসব এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরও প্রচুর আনাগোনা ছিল। শামুকের ডিম পাখির অন্যতম প্রিয় খাবার হওয়ায় জলাভূমিগুলো ছিল পাখিদের বিচরণক্ষেত্র। সে সময় এলাকায় বোরো ধানের আবাদ ছিল না; মূলত আউশ ও আমন ধানের চাষ হতো। এসব ধান চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারও ছিল না বললেই চলে। তাঁরা আরও বলেন, একসময় বিলে নৌকা চালানোর সময় পানির নিচে থাকা শামুকের কারণে একধরনের গড়গড় শব্দ শোনা যেত। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য ও শব্দের দেখা মেলে না। দীর্ঘদিন পর বিলে নতুন করে শামুকের উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় একে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আবারও জলাশয় থেকে শামুক হারিয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, শামুক শুধু জলজ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই নয়, এটি জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। তাই নির্বিচারে শামুক আহরণ বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

Advertise

Ads

Address

Office : Sheikh Fazlul Haque Moni Stadium (2nd floor), Gopalganj-8100 Mobile: 01712235167, Email: kalerkhabor24.com@gmail.com
© All rights reserved 2022

Design & Developed By: JM IT SOLUTION