
কালের খবরঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ, ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ২ প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এ তিনটি আসন থেকে মোট ৩৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান পৃথক সময় সূচিতে গোপালগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন।
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ, সংসদীয় আসন-২১৫) আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও একজন গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) মনোনীত মোঃ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মোঃ মিজানুর রহমান, জনতার দল মনোনীত মোঃ জাকির হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মোহাম্মাদ আবদুল হামিদ মোল্লা, জাতীয় পার্টির (জাপা) সুলতান জামান খান, কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত নীরদ বরন মজুমদার, এবি পার্টি মনোনীত মোঃ প্রিন্স আল আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ইমরান হুসাইন ও স্বতন্ত্র আনিসুর রহমান। এই আসনে বাতিল করা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ভোটারের এক শতাংশ সমর্থন সূচক স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় আশ্রাফুল আলম, নাজমুল আলম ও মোঃ কাইয়ুম আলী খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপির অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত মোঃ কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ, সংসদীয় আসন-২১৬ ) আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া ছয়জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি থেকে কে এম বাবর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম সিকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ শুয়াইব ইবরাহীম, জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান, গণফোরাম শাহ মফিজ, গণঅধিকার পরিষদ থেকে দ্বীন মোহাম্মদ, স্বতন্ত্র এম এইচ খান মঞ্জু।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া, শিপন ভূইয়া, রনি মোল্লা, মশিউর রহমান, সিরাজুল ইসলাম ও উৎপল বিশ্বাস। এর মধ্যে পাঁচজনের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। আর উৎপল বিশ্বাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয় ঋণ খেলাপি ও স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া,সংসদীয় আসন-২১৭) আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বাতিল, ২ জনের মনোনয়ন স্থগিত এবং ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি থেকে এস এম জিলানী, জামায়াতের এম এম রেজাউল করিম, এনসিপি’র মোঃ আরিফুল দাঁড়িয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মারুফ শেখ, এনপিপি শেখ সালাউদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদ আবুল বশার দাঁড়িয়া, খেলাফত মজলিশের আলী আহমেদ, স্বতন্ত্র মোঃ হাবিবুর রহমান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক ও রওশন আরার ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় তাঁদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নতুন ব্যাংক হিসাব না থাকায় গণফোরাম মনোনীত দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস এবং হলফনামায় সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত আঃ আজিজের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।আগামীকাল রবিবার এই দুইজনের বিষয়ে সিধান্ত জানানো হবে।
উল্লেখ্য গোপালগঞ্জ জেলায় মোট ভোটার ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৮ জন আর নারী ভোটার ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩২৫ জন, হিজলা ৫ জন। জেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৩৯৭টি।
গোপালগঞ্জ-০১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫১০জন। পরুষ ২ লাখ ২ হাজার ৮২১ জন, নারী ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৯জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি।গোপালগঞ্জ-০২ মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৪ জন। পুরুষ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬২ জন আর ১ লাখ ৯ হাজার ২৫৮জন, হাজড়া ৪জন। কেন্দ্র ভোট ১৫১টি।গোপালগঞ্জ-০৩ মোট ভোটার ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪জন। পুরুষ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৫জন আর নারী ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৮ জন, হিজড়া ১জন। ভোট কেন্দ্র ১০৮টি।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION