গোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভাগীয় সভাপতি, অনুষদের ডিনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কেএম বাবর। এ লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং বিভাগীয় সভাপতি ও ডিন হওয়ার যোগ্য শিক্ষকদের একটি তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কাছে চেয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কেএম বাবর বলেন,দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারের হাত শক্তিশালী করতে স্থানীয়ভাবে কাজ করতে হবে। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে পারব
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু একটি দিবস নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের পথনির্দেশক। সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল দেশ ও জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে তাঁর সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রধান নীতি সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, আমরা যার আদর্শে অনুপ্রাণিত হই, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর দলের প্রধান স্লোগান ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা যদি এই দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসি এবং বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু দেখতে চাই, তাহলে আমাদের সবার এই বিষয়টি মানা উচিত যে ব্যক্তি বড় নয়, দল বড় নয়; বাংলাদেশ সবার আগে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি উন্নত হতে চাই, তাহলে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়েছে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে। এদিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। তাঁর বিরল নেতৃত্বেই দেশে সংহতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল।
আরেক বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখন সংকটে পড়েছিল, তখন সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতিকে সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল। গৌরবের সেই সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ।আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION