কালের খবর ডেক্সঃ
আলোচনা সভা, র্যালি, পুরস্কার বিতরণ, প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে পালিত হয়েছে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ও বিএনপির পক্ষে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে বিভিন্ন রং এর পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষে সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ উজ জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রাফিকুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক জীবিতেষ বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)এস এম তারেক সুলতান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ। এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পরে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে একই স্থানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) র্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করে। সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. কে এম বাবর বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু একটি দিবস নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের পথনির্দেশক। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। তাঁর আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশ বড়,এই চেতনাকে ধারণ করেই সবাইকে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনার গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, দুপুর ২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দেশাত্মবোধক গানের আসর এবং বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সিনেমা হল ও ভ্যানযোগে বিভিন্ন স্থানে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এছাড়া জেলার হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার সব মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য জেলার সব শিশুপার্ক বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়।
বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অপরদিকে, দিবসটি পালন উপলক্ষে বিকেলে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের বিসিক শিল্প এলাকা থেকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
শোভাযাত্রায় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিন ও জিয়াউল কবির বিপ্লব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হীরা, সদস্যসচিব মাহমুদ হাসানসহ জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এর আগে, জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে, জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION