কালের খবরঃ
গোপালগঞ্জে গত এক সপ্তাহে ৪৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১০ মাস বয়সের এক কন্যাশিশু ঢাকায় মারা গেছে। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩০ জন শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনের হাম পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন রোগী গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে হাম শনাক্ত করার কোনো ল্যাব নেই। ফলে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। একটি নমুনা পরীক্ষা করতে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় প্রয়োজন। তবে নমুনার চাপ থাকলে তা ৭ দিনেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোঃ ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপালগঞ্জসহ দেশের কোন জেলা পর্যায়ে হাম শনাক্ত করার ল্যাব নেই। হামের নমুনা সংগ্রহ করে তা ঢাকায় পাঠানো হয়। ইতোপূর্বে হামের লক্ষণ সচারচর দেখা না দেওয়ায় ল্যাবের প্রয়োজন পড়ে নাই। ল্যাব না থাকলেও হাসপাতালে আসা রোগীদেও চিকিৎসাসেবা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সকল সরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, হামের লক্ষণ নিয়ে কোন রোগী আসলে তাকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিতে বলা হয়েছে। এবং তাদের নমুনা দ্রুত সংগ্রহ করে তা পাঠাতে এবং সিভিল সার্জন অফিসকে বিষয়টি তাৎক্ষনিক জানাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের ১০ মাসের তুবা ইসলাম তোহা হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মারা যান। এরপরই গোপালগঞ্জের স্বাস্থ্যবিভাগ নড়েচড়ে বসে। পরে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক তোহার বাড়ি যান। একই সাথে আশপাশের গ্রামগুলোতে তথ্য সংগ্রহ করে হামের টিকা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর আগে ১৯ মার্চ তার জ্বর দেখা দেয়। পরে শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীরে হাম দেখা দেয়।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION