কালের খবরঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ষড়যন্ত্র করে পিয়াজের জমিতে পচনশীল ঔষধ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভুক্তভোগী পিয়াজ চাষি কৃষকরা।সরেজমিনে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের ইমরান ডাক্তার, বসার মিয়া, আজাদ ফকিরসহ কয়েকজন কৃষক মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ও পশারগাতী ইউনিয়নের সুরুপী মৌজার প্রায় ১০–১৫ একর জমি লিজ নিয়ে পিয়াজ চাষাবাদ করছিলেন। এই জমিতে প্রথমে সুন্দর পিয়াজ চাষ দেখতে পাওয়া গেলেও ১৫–২০ দিন আগে রাতে কে বা কারা ৮–৯ বিঘা জমিতে পচনশীল ঔষধ প্রয়োগ করে। এর ফলে পিয়াজের গাছ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকের বিরুদ্ধে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এঘটনার পর মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পিয়াজের জমি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, পিয়াজ ক্ষেতের পরিস্থিতি দেখে তিনি মনে করছেন, জমিতে প্যারাকুয়েট নামক আগাছা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে পিয়াজ গাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে এবং পিয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে। এরফলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে পরেন।কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, ক্ষতির পরিমাণ কমাতে কৃষকরা কারবেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে পারেন, এবং দুইদিন পরপর স্প্রে করলে কিছুটা ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি দপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আহম্মেদ কুদ্দুস এবং স্থানীয় পিয়াজ চাষীরা। জমির মালিক মতিউর রহমান খান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এবং ক্ষতিকর কাজের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
Design & Developed By: JM IT SOLUTION